মার্কিন নাগরিক হত্যায় ফাঁসছেন পুলিশ কর্মকর্তা

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সাফায়েত মাহাবুব ফারায়জীকে হত্যার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশের এক সহকারী কমিশনার ও এসআই। এই দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট আটজনকে আসামী করে আদালতে মামলা করেছেন নিহতের মা।

প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পর আদালতে মামলা করেছেন ফারায়জীর মা শামীমুন নাহার লিপি। তিনি অভিযোগ করেছেন হত্যাকাণ্ডের পর থানায় মামলা করতে গেলেও তাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। উল্টো তিনি হুমকির শিকার হয়েছেন। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ফারাইজির বান্ধবী সুজানা তাবাসসুম সালাম, বন্ধু আফতাব, শাখাওয়াত, আসওয়াদ। এছাড়া, যে বাড়িতে ফারায়েজির লাশ পাওয়া গেছে, সেই বাড়ির মালিক কামরুল হক ও কেয়ারটেকার রিপনকেও আসামি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সাফায়েত আমেরিকায় থাকাকালীন মামলার প্রধান আসামি সুজানার সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে দেশে এলে সুজানা কৌশলে তাকে ফাঁদে ফেলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে না পেরে হত্যা করেন। এতে পুলিশের একাধিক সদস্য সাফায়েতকে হত্যায় সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের আগে সাফায়েত জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন।

বাদীর অভিযোগ, এর আগে হত্যা মামলা করতে ভাটারা থানা ও ডিএমপিতে একাধিকবার গেলেও পুলিশ আমলে নেয়নি। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহায়তায় গতকাল আদালতে হাজির হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলা নম্বর সিআর ৯৮/২০২২। মামলাটি আদালত গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৯ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

জন্মসূত্রে শামীমুন নাহার লিপির বড় ছেলে সাফায়েত মাহাবুব ফারায়জী একজন আমেরিকান নাগরিক। সাফায়েতের বাবার সঙ্গে ডিভোর্সের পর দুই ছেলেকে নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করে আসছিলেন লিপি। সাফায়েত আমেরিকায় পড়ালেখা শেষে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। মা লিপি বাংলাদেশে থাকায় তার জন্মদিন উদ্‌যাপনে গত বছরের ২৯শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন।

Sharing is caring!