জয়ের নামে ডাকটিকেট কেন ?

নকীব মাহমুদ, ঢাকা


বাংলাদেশের ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সেই জয়ের বয়স এখন ৫০ বছর। মঙ্গলবার তার জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে বেশ ঘটা করেই। যদিও দেশে লকডাউন চলছে। গরীব মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু তার জন্মদিন বলে কথা। তিনি বাংলাদেশের উচ্চ ব্যক্তি না হলেও এবার তার জন্মদিনে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটা কার্ড অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়টি দিনভর আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, জয় কি ডাকটিকেটে নাম ওঠানোর যোগ্য। বিষয়টি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ভালভাবে নিচ্ছে না। তবে তারা দলীয় লোক হওয়ায় কথা বলতে পারছে না।

ডাক টিকেটে ১৯৭১ টু ২০২১ লেখায় অনেকে বলেছেন, জয়ের জন্ম যদি ৭১ হয়, তাহলে কি সে ২১ এ মারা গেছে? নাকি জীবিত আছে। এমন নানা ভাবে তার জন্মদিনে সমালোচক যুবকরা ট্রলও করছে। কিন্তু কোন দিকেই ভ্রুক্ষেপ নেই ভোটারবিহীন সরকারের।

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, জয় বাংলাদেশের জন্য কি করেছে? তার অবদান কি জাতি জানতে চায়? তার এমন কি অবদান রয়েছে যে গরীব এই দেশে তার নামে ডাক টিকেট অবমুক্ত করা হলো?

কেউ কেউ বলছেন, সাত শ্রেষ্ঠ বীর বা দেশের আরও মনিষী আছেন তাদের নামেও ডাকটিকেটটি অবমুক্ত করা যেতো কিন্তু তার নামে অবমুক্ত করা মানেই শহীদদের প্রতি অসম্মান।

যদিও বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় তেমনভাবে কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও কোন টু শব্দও করত পারছে না। জয়ের ৫০ তম জন্মদিনে কি এমন কারণ যে তার নামে ডাক টিকেট অবমুক্ত করতে হবে এমন প্রশ্ন কোটি বাঙালীর। কিন্তু তারা কোন জবাব পাচ্ছেন না। কারণ জবাব চাইলে তার বিনিময়ে আসবে গুলি, গ্রেফতার বা ক্রসফায়ার। এসব ভয়ে তটস্ত দেশবাসী। ভয়ে তারা মুখ খুলছে না। কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখত পারলেও ফেসবুকে লেখা থেমে নেই।

তারা আরও বলছেন, জয় এমন বাংলাদেশে কি হলো যে তার নামে প্রতিটি টিভিতে জন্মদিনে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে। তিনি কি দেশের স্মরণীয় বরণীয়দের কেউ? যদি নাই হন, তবে কেন এত লোক দেখানো আয়োজন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী গণভবনে এক অনুষ্ঠানে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম এবং পাঁচ টাকা মূল্যের ডাটা কার্ড অবমুক্ত করা হয়। এ উপলক্ষে একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়।

আজ থেকে ঢাকা জিপিওর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে স্ট্যাম্প, উদ্বোধনী খাম ও ডাটা কার্ড বিক্রি শুরু হয়েছে। এগুলো পরে দেশের অন্যান্য জিপিও এবং প্রধান ডাকঘর থেকে পাওয়া যাবে।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে উচ্চ বেতন পরিশোধ করা হয়। যা কয়েক কোটি। ফলে সেই সমালোচনাই এখনো চাপা পড়েনি। আবারও নতুন করে তার নামে ডাক টিকেট অবমুক্ত করে এবার তোপের মুখে ভোট চোর সরকার।

সজীব ওয়াদেজ জয়ের বিরুদ্ধে উচ্চ বেতন ছাড়াও বিভিন্ন আইসিটি প্রকল্পের টাকার ভাগ নেওয়ার অভিযোগ কম নয়। তার অন্যতম সঙ্গী আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। আইসিটি মন্ত্রণালয়ে জনশ্রুতি আছে, মামাকে (জয়) ভাগ না দিলে বিলই পাশ না। বিল দুই টাকা হলে অর্ধেক মামাকে দিতে হবে।

সমালোচকরা বলছেন, ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার পথেই হাটছেন। একনায়ক তন্ত্রে দেশ চালাচ্ছেন। কেউ এটা বলতে পারছে না। তবে তাও নানা কারণে। তারা আরও বলছেন, দেশে সাত শ্রেষ্ঠ বীর থাকার পরও তাদের নামে কয়েক বছরে বা স্বাধীণতার ৫০ বছর পূর্তি হলেও কোন আয়োজন নেই। নেই কোন ডাক টিকেট অবমুক্ত করার নামও। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ছেলে বলে তার নামে ডাকটিকেট অবমুক্ত করা হলো যা দেশের জাতির সাথে চরম বেইমানী ও প্রতারণা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হাসিনা এখন কারও কথাই শুনছে না। তিনি একনায়কের নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। ফলে কোনো দিকে তাকান না, কারও সমালোচনায় কানও দেন না। সব মিলে আওয়ামীলীগের ভোটারবিহীন সরকার যা করছে তা স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ। এই আচরণ দেশের মানুষ মেনে নিচ্ছে না। হয়ত তারা বিক্ষোভ করছে না কিন্তু ঠিকই মনের ময়দানে প্রতিদিন মিছিল করে । কবে এই জালেমের পতন হয়।

আওয়ামী লীগের এক সাবেক নেতা বলেন, জয়কে যেভাবে পূজা করা হচ্ছে মনে হয় যেনো উনি বঙ্গবন্ধুর চেয়েও বড় মাপের কিছু হয়ে গেছেন। অথচ তিনি কি এখনো জাতিই জানে না। একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার নামে কি ডাকটিকেট অবমুক্ত করা সম্ভব ? বিষয়টিতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, ভোটারবিহীন এ সরকার তার আত্মীয়স্বজনকে খুঁশি রাখতেই বেশি পছন্দ করে।



Sharing is caring!